গল্পঃ ভালোবাসার অনুভূতি

পর্বঃ২

Collected.......  




আপনি কি জানেনা বাঙ্গালী স্ত্রীরা স্বামীর নাম মুখে আনে না,এই বলে বিথি মুখ চেপে ধরে হাসতে লাগল....


তখন বাস টা সম্পূর্ণ খালিই ছিল,তাই সুবুিধা জনক সিটে বসতে পারলাম.....


বিথি জানালা দিয়ে বাহিরের দিকে তাকিয়ে

আছে....


হেল্পার কন্টডাকটরের চিৎকার চেচামেচির সাথে আবার ভাবসা গরম....

তার উপরে সারা রাত জেগে থাকা ক্লান্ত শরীর....


সব মিলিয়ে একটা অস্বস্থিকর পরিস্থিতির মধ্যে আছি...

দশ বারজন যাত্রি নিয়ে বাস টান দিল, একটু পর পর বাসটা থামিয়ে ডাকা ডাকি করে যাত্রি ভরতে লাগল.....


বাসটা চললে একটু বাতাস লাগে কিন্তু থামলেই গরমে শরীরটা জলে উঠে....

বিথি কোন কথা না বলে চুপ চাপ বসে আছে....


আমি হাটু দুইটা ভাজ করে,কোমরটা একটু নামিয়ে সিটের সাথে মাথা হেলান দিয়া চোখ বুঝলাম....


একটু ঘুমাতে পারলে হয়ত ভাল লাগবে, ন্তু ঘুম আসছে না...

হঠাৎ করে বিথিকে নিয়ে চিন্তায় পরে গেলাম....


ওকে নিয়ে গিয়ে দাদার কাছে কি বলব?


যা একটা বলে না হয় পরিচয় দিলাম কিন্তু রাত হলে ওকে কোথায় থাকতে দিব?


দাদার বাসায় যদি রাখতে বলি তাহলে কি দাদা তার বাসার থাকতে দিবে?


তার বাসায়ত সবাই আছে, যদি নিজের বোন বা মেয়ে মনে করে আশ্রয় দেয়....


আবার ভাবি,না তাও রাখা যাবে না, তার কারণ দাদার চরিত্র ভাল না....


প্রতিরাতে মদ পান করে মাতলামি করে....

গভির রাতেই রিক্সার গেরেজে বিভিন্ন মেয়ে নিয়ে ফুর্তি করে...


তার বাসা থেকে ভাত আনতে গিয়েও ভাবির কাছে তার চরিত্রের নমুনা শুনেছি....

তাহলে কি করব?


এই সব চিন্তা করতে করতে বিথির দিক চোখ পরল...


বিথি আমার কাদের উপর মাথা রেখে পরম নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে, ওর শরীরটা কাত করে আমার দিকে ঝুকে রয়েছে....


বিথির একটা হাত কোমরের উপর ভাজ করে রেখেছে আর অন্যটা আমার উরুর উপর...


ওর ঘুমানোর স্টাইল দেখে মেজাসটা গরম হয়ে গেল....

যাকে নিয়ে চিন্তা করতে করতে আমি পেরেশান হচ্ছি.....


আর সে আরাম করে ঘুমাচ্ছে তাও আবার আমার কাধে উপর মাথা রেখে?


মনটা চাইল ধাক্কা দিয়ে কাধ থেকে উঠাইয়া দিয়া বলি,তোমার যেখান খুশি চলে যাও, আমার সাথে তোমাকে নিতে পারব না....


কিন্তু আমি যদি মেয়েটাকে সাথে না নিয়ে যাই তাহলে ও কোথায় যাবে?


এতক্ষনে বাসটা ফার্মগেইটে এসে যাত্রী উঠাইতে লাগল....


এমন সময় জানালা দিয়ে হকার চিৎকার করে বলতে লাগল শসা লাগবে শসা?


হকারের চিৎকারে বিথির ঘুম ভেংগে গেল....

ঠিক হয়ে বসে বাহিরের দিকে তাকিয়ে রইল....


আমি দুই পা টান করে সোজা হয়ে বসে বিথিকে জিঙ্গাসা করলাম,শসা খাবেন?


বিথি কিছু বলছে না....

নিরবতা বলে দিচ্ছে ও খাবে....

তাই হাত বারিয়ে দুই পেকেট শসা নিলাম...


বিথির হাতে পেকেট দুইটা দিয়ে আমি পকেট থেকে টাকা বের করে হকারকে দিলাম....


বিথি আবার দুইটা পেকেট আমার হাতে দিয়ে ওর মুখ থেকে ওড়না সরাতে লাগল....


আমি শসা ধরে ওর দিকে তাকিয়েই আছি....

ওড়না খুলতেই ওর ফর্সা উজ্জল মায়াবি চেহেরাটা বেরিয়ে এল....


ওর ঘুমন্ত চেহেরার দিকে লক্ষ করে আমার সকল সঙ্কল্প ভেংগে গেল....

এমন নিষ্পাপ চেহেরার দিকে তাকিয়ে

আমি সারাটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারব.....


তখন বিথি কিছু একটা বলল কিন্তু আমার সেদিকে খেয়াল নাই.....

আমি হারিয়ে গেছি ওর রুপের সাগরে....


বিথি একটু জোরে কাশি দিয়ে বলল, আর কতক্ষন লাগবে আপনার ঠিকানায় পৌছাইতে?


আমি শসার পেকেট হাতে দিয়ে বললাম হয়ত আধাঘন্টার মত....


কিন্তু যেখানে যাচ্ছি সেটা আমার ঠিকানা না...

দুবছর আগে দাদার রিক্সার গেরেজে তিন মাসের মত ছিলাম, ওনার বাড়ি অবশ্য আমাদের গ্রামে, কিন্তু গ্রামে তেমন আসে না,বউ ছেলে মেয়ে ঢাকাতেই থাকে....


একটু পর বিথজ আমাকে জিঙ্গাসা করল, আপনি কি আমাকে একা রেখে চলে যেতে পারবেন?


আমি বললাম, একা রেখে চলে যেতে পারব না বলেই এত ভাবছি....


তখন বিথি খুব আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইল আমাকে নিয়ে কি ভাবছেন?


অনেক কিছুই ভেবেছি কিন্তু কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারি নাই....


বিথিঃ আমার বিশ্বাস আপনি একটা ব্যবস্থা করতে পারবেন....


আমিঃ আর এই জন্যই আপনি নিশ্চিন্তে মনে আমার কাধে ঘুমিয়ে ছিলেন?


বিথি একটু লজ্জা পেয়ে মুখটা ঘুরিয়ে নিয়ে চুপ করে রইল....

আবার টেনশন মাথায় এসে ভির জমল বিথি কে নিয়ে কোথায় যাব?


ওর বাড়ি থেকে পালিয়ে আসার কথাও কাউকে বলা যাবে না....

তাহলে মানুষ ওকে নিরে খারাপ মন্তব্য করবে.....


মনে মনে একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিলাম, ওকে যেভাবেই পারি আমার কাছে রাখব....

যদি ও আমাকে বিবাহ করতে রাজি থাকে তাহলে কাজি অফিসে গিয়ে বিয়ে করে নিব....

ওকে আমি হারিয়ে যেতে দিব না....


বিথি আমাকে জিঙ্গাসা করল ভেবে কিছু পাইলেন কি করবেন?


আমি একটু হাসি দিয়ে বললাম, একটা উপায় খুজে পেয়েছি....

বিথি জানতে চাই কি উপায়?


আমি বললাম,আপনাকে বিয়ে করে বাসা নিয়ে ঢাকাতেই থেকে যাব...


অথৈর ফর্সা মুখটায় আধার নেমে এল, বুঝতে পারলাম এমন কিছু শুনার জন্য ও প্রস্তুত ছিল না...


কিন্তু বিথিকে যে আমার চাই,ও যেভাবে চাইবে আমি সেভাবেই ওকে আমার কাছে রাখব.....

আগে দাদার কাছে যাই তারপর ভেবে চিন্তে একটা কিছু বের করব.....


দুজনই চুপ হয়ে রইলাম কিছুক্ষন.....

বাসটা শ্যামলী স্টান্ড পার হওয়ার পর বললাম আমরা এসে গেছি.....


বিথি আবার ওড়না দিয়ে চেহেরাটা ভাল করে ঢাকল...

সামনে সিটের উপর রাখা আমার হাতের উপর ওর হাত রেখে বলল, আমার খুব ভয় করছে.....


আমি একটা অসহায় মেয়ে,আমাকে সম্মান দিলে আল্লাহও আপনাকে সম্মান দিবে.....


আপনি দয়া করে আমার জন্য কিছু একটা ব্যবস্থা করুন....

আমি উঠে দাড়িয়ে ব্যাগ দুইটা নিলাম.....


তখন বিথি আমার বাহুধরে বাস থেকে নামল....

কল্যাণপুর বাস স্টান্ড থেকে হেটে যেতে দাদার গেরেজে দশ মিনিটের রাস্তা......


কিন্তু মেয়ে মানুষ নিয়ে হাটতে ভাল লাগল না....

তাই রিক্সায় চড়ে বসলাম....


বিথি চুপ করে রয়েছে কোন কথা বার্তা বলছে না, আর আমি শুধু ভাবছি কি বলে দাদার কাছে অথৈর পরিচয় দিব?


হঠাৎ একটা কথা মনে হল,এতক্ষন একসাথে রইলাম কিন্তু ওর সমন্ধে কিছুই জানি না.....


শুধু নাম জানি বিথি....

কিন্তু ওর বাড়ি কোথায়?

বাবার নাম কি?

কোন থানায় বাড়ি কিছুই জানি না.....


দাদা জিঙ্গাসা করলে কি বলব?

দাদাত আমাদের জেলার সব জায়গাই চিনে.....


আর ওর বাড়ি নিশ্চয় আমাদের জেলাতেই হবে....

রিক্সা গেরেজের ভিতরে নিয়ে থামাল.....


এই সময় গেরেজ ফাকা থাকে..

দাদা চেয়ারে বসে ছিল,আমাকে দেখে এক গাল হাসি দিয়ে বলল....

এত দিন পর দাদার কথা মনে পরল?


আমি দাদাকে ছালাম দিয়ে বিথিকে নিয়ে রিক্সা থেকে নামলাম.....


দাদা ছালামের উত্তর দিয়ে বলল,বউ বগলে করে কি ঢাকার শহর ঘুরতে আইছত?

তা বিয়ে করলি কবে?


দাদার কথার উত্তর কি বলব ভেবে পাচ্ছি না....

তাই চুপ করে দাড়িয়ে রইলাম...

দাদা তার ছোট্ট রুমটা দেখিয়ে বলল,বউকে ওনানে বসিয়ে আয়...

কতদিন দেশের খবর বার্তা শুনি না....


আমি ব্যাগ সহ দাদার রুমে ঢুকে ইথিকে বললাম, আপনি এখানে বসুন....


আমি দাদার সাথে আলাপ করে দেখি কিছু একটা ব্যবস্থা করতে পারি কি না....


বিথি আমার হাত ধরে চোখের পানি ছেরে দিল...


আমি বললাম, চিন্তা করবেন না,নিশ্চয় আল্লাহ একটা ব্যবস্থা করে দিবে.....


দাদার সাথে বসে অনেক ক্ষন তাদের বাড়ির ব্যাপারে কথা বার্তা বললাম.....


বৃদ্ধ মাকে অনেক দিন দেখতে যেতে পারে না এই জন্য দাদা খুব আপসছ করল....

আমি দাদাকে খুব জোর করে বললাম, আমার জন্য একটা কাজের ব্যবস্থা করে দিবেন.....


দাদা বলল,আমার কাছে একটাই কাজ আছে তা হল রিক্সা.....


ইচ্ছে হলে এখনই একটা লইয়া বের হতে পারছ....

মনে মনে ভাবলাম নিজের ইচ্ছে গুলো জলাঞ্জলি দিয়ে বিথিকে নিয়ে সুখের ঘর বাধব....

আমি প্রয়োজনে রিক্সাই চালাব.....


রিক্সা চালিয়ে হয়ত বাড়ি গাড়ি করতে পারব না.....

তবে বিথিকে সম্মান দিয়ে দু মুঠো ভাত মুখে তুলে দিতে পারব.....


এমন সময় একে একে রিক্সা গেরেজে ঢুকতে আরম্ভ করল....

বিথিকে ডাক দিয়ে দাদার পাসের চেয়ারে বসিয়ে আমি দাড়িয়ে রইলাম....


যারা হাফ বেলা চালায় তারা রিক্সা জমা দিতে এসেছে....

অনেক ড্রাইভারই আমাকে চিনে.....


তখন বিথিকে দেখে সবাই একই মন্তব্য করছে বউ নিয়ে ঢাকা ঘুরতে এসেছেন?

কবে বিয়ে করলেন?

বিয়ের মিষ্টি কোথায়?


বিথি মাথা নিচু করে বসে সবই শুনছে.....

আমি দাদাকে বললাম, আমরা আর গ্রামে ফিরে যাব না.....


এখানেই একটা বাসা ভাড়া করে থাকব,আপনি আমাদের জন্য একটা বাসা ভাড়া করে দেন.....


দাদা বলল,সে করে দেওয়া যাইব, বউ নিয়ে যখন এসেছত চল বাসায় যাই, পরে একটা বাসা খুজে দিব....


এক ড্রাইভার বলল, আমি যে বাসায় থাকি তার পাসের রুমটা খালি আছে, আপনি যদি বলেন তাহলে রুমটা ভাড়া করে দিতে পারি....


দাদা বলল,তাহলে ভালই হবে,তুই ওদের বাসাটা নিয়ে দে.....


এখানের সব ড্রাইভার উত্তর বঙ্গের....

যাদের বউ আছে তারা বাসা ভাড়া করে থাকে.....

তবে সবার বউ বা মেয়ে গার্মেন্টসে কাজ করে....

আর যাদের বউ নাই তারা গেরেজেই মাচাং বানিয়ে থাকে....


যে আমাদের বাসা ভাড়া করে দিবে তার রিক্সায় বিথি আর আমি উঠে বসলাম,দাদা অন্য রিক্সায়.....


বিথি কাঁপছে,বুঝতে পারলাম ও ভয় পাইতেছে....

বিথির কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললাম....

ভয়ের কিছু নাই ভাবি খুব ভাল মানুষ....


তবে সবাই ভেবে নিয়েছে আপনি আমার বউ, দাদার বাসায় গিয়ে বউয়ের মতই আমার সাথে আচরণ করবেন....


আর একটা কথা যদি বউ পরিচয় দিয়ে একটা বাসা ভাড়া নেই তাহলে কি আপনার কোন আপত্তি আছে?


তখন বিথি  বলল,বিশ্বাস করে আপনার হাত ধরেছি....

যা ভাল মনে হয় করেন,আমার কিছু বলার নাই....


দাদার বাসায় অনেক লোক,আমাদের দেখে অনেকে অনেক কিছু বলল....

বিশেষ করে ভাবি অনেক মশকরা করল.....


বিথি যখন হাত মুখ ধুয়ে খাবারের জন্য বসল....

ভাবি বলল,রাসেল এর পছন্দ আছে....

যেমন গায়ের রং তেমনি চেহেরা....


বিথিকে ভাবি বলল, রাসেল এর তিন কুলে কেউ নাই....

এখন তুমি আছ,ওকে তোমার আদর ভালবাসা দিয়ে সব দুঃখ কষ্টগুলো মুছে দিও.....


ঠিক তখনি বিথির মুখে থাকা ভাত তালুতে উঠে কাশতে লাগল.....

আমি পানির গ্লাসটা বিথির সামনে ধরে কয়েকটা কাশ দিলাম....


ভাবি বলল,মনে হয় বাড়ির কেউ মনে করছে....

আর বিবাহিত মেয়ের নাক খালি থাকলে ভাল দেখায় না....


আমি বললাম, ভাবি নাক ফুল আছে,কিন্তু ও পরতে চায় না....

তখন বিথি আমার দিকে এক নজর চেয়ে ভাতের প্লেটে হাত দিল....


ভাবি বলল, নাক ফুল হল স্বামীর দেওয়া চিন্হ,ভাত খেয়ে নাক ফুল পরে নাও....

আমি বিথিকে বললাম, তুমি ভুলে গেলে ও আমি ভুলি নাই....

নাক ফুল সাথে করেই নিয়ে এসেছি....


এই প্রথম বিথিকে তুমি করে বললাম, কিন্তু নাক ফুলের কথা শুনে ও অবাক হয়ে আমার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে রইল....


ভাত খাওয়া হলে আমার ব্যাগ থেকে নাক ফুলটা এনে বিথিকে দিয়ে বললাম, পরে নাও আর কখনও খুলবে না....


ভাবি নাক ফুলটা হাতে নিয়ে দেখে বলল,অনেক পুরাতণ কিন্তু ডিজাইনটা খুব সুন্দর.....

স্বর্নকারের দোকানে নিয়ে গিয়ে পরিষ্কার করে আনবে.....

দেখবে ওর চেহেরায় উজ্জলতা আরও বেরে যাবে.....


তখন বিথি বলল,আমি পরতে পারি না,তুমি একটু পরিয়ে দিবে?


ওর কথায় শুনে আমার বুকের ভিতর আনন্দে টাগডুম টাগডুম করতে লাগল....


বিথির কথায় আমার প্রায় হেসে ফেললাম....


তারপর....

বিথি বলল, আগে পরিয়ে দাও পরে যত মন চায় হেসো.....

নাক ফুলটা বিথিকে পরিয়ে দেওয়ার সময় চোখের জল চলে আসল....


বিথি ব্যাপারটা খেয়াল করল কিন্তু কিছু জিঙ্গাসা করল না....

রিক্সা ওয়ালা এসে হাজির,ভাবির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসা দেখতে গেলাম....

চারজন ভাড়াটিয়া,বাড়িওয়ালা থাকে না....

চারিদিকে ইটের দেওয়াল থাকলেও উপরে টিন....


রুমটা দুজনের জন্য যথেষ্ট কিন্তু এক মাসের অগ্রিম ভাড়া দিয়ে বাসায় উঠতে হবে.....

কারণ,সাথে কোন আসবাবপত্র নাই, দুই একদিন থেকে যদি পালিয়ে যাই....


কিন্তু অামার কাছে যা টাকা আছে সেখান থেকে দেওয়া যাবে না....

কারণ,তাহলে না খেয়ে থাকতে হবে।তাই বললাম, অগ্রিম দেওয়ার মত টাকা আমার কাছে নাই....


যে রিক্সা ওয়ালা চাচা আমাদের নিয়ে এসেছে সে বাড়িওয়ালাকে বলল, ওরা ভাল মানুষ, আমাদের মহাজনের গ্রামের লোক, ভাড়া না দিয়ে যদি পালিয়ে যায় তাহলে আমি আপনার ভাড়া পরিশোধ করে দিব....


এই সর্তে বাড়িওয়ালা আমাদেরকে চাবি বুঝালয়া দিল, তবে সব চেয়ে বড় সর্ত হল মাসের পাচঁ তারিখের মধ্যে ভাড়া আমার চাই....


এই বলে বাড়িওয়ালা চলে গেল....

তারপর বিথিকে নিয়ে রুমে ঢুকে বললাম, বউ পেলাম ঘর পেলাম কিন্তু বউ ঘুমাবে কোথায়?

স্বামীর জন্য কিসে করে রান্না করবে?


বিথি একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে বলল, আমার কাছে কিছু টাকা আছে আপনি গিয়ে সব কিনে নিয়ে আসেন....


মনটা চাইল এমন সুন্দর বউটাকে একটা চুমু দিয়ে বুকে জরিয়ে ধরি....

বিথি বলল,আপনি কি কিছু বলছেন আমাকে?


আমি বললাম, তেমন কিছু না,তবে নতুন বউ ঘরে আসলে সবাই যা ভাবে আমিও তেমন কিছু ভাবতে ছিলাম....


তখন বিথি আমার কথা শুনে কিছু না বলে শুধু বলল,আমি কি স্নান করতে পারব?


আমি বললাম, এ তোমার ঘর তোমার বাড়ি যা খুশি তাই করতে পারবে....


তারপর....

বিথি ব্যাগ থেকে কাপড় বের করে বাথরুমে ঢুকে গেল....

আমি আমার ব্যাগের উপর বসে ভাবতে লাগলাম....

মাথা গোজার ঠাই খুব সহজেই পেয়ে গেলাম কিন্তু বিথিকে নিয়ে একঘরে কি করে থাকব?


বিয়ের কথা শুনে মুখটা কালো করে রেখেছিল,তার মানে ও বিয়ে করতে রাজি না....

তাহলে এভাবে স্বামী স্ত্রী সেজে কতদিন থাকব?


সত্য কোন দিন গোপন থাকে না,একদিন সবাই জানবে তখন কি হবে?


তখন যদি ও আমাকে ছেরে চলে যায় তাহলে আমি কি নিয়ে থাকব....

তাহলে আমি কি ওর প্রেমে পরে গেছি....


আমি কেন পৃথিবীর যেকোন ছেলে ওকে দেখলে প্রথম দৃষ্টিতেই প্রেমে পরে যাবে....


এমন সময় বিথি বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে আমার সামনে দাড়াল....


চান্দের আলো ঘরের চালা ফুট করে সমস্ত ঘরটাকে আলোকিত করে দিল....

আমি ওর দিকে একদৃষ্টিতে চেয়ে রইলাম...

ওর থেকে চোখ ফেরাতে পারছি....


তখন বিথি বলল,আপনিও স্নান  করে আসেন ভাল লাগবে...


আর শুনুন এভাবে যদি আপনি আমার দিকে তাকিয়ে থাকেন তাহলে বউ পালবেন কিভাবে?


তারাতারি গোসল করে আসেন মার্কেট যেতে হবে....

তখন বিথির র কথা শুনে খুশিতে নাচতে মনে চাইল....


তারপর....

গোসল সেরে দুজন রিক্সায় চেপে সংসারের প্রয়োজনী জিনিস কিনে বাসায় ফিরলাম

হাড়ি পাতিল থালা বাসন সব কিছু.....


শোয়ার জন্য বড় দেখে একটা তোষক ও,দুইটা বালিশ নিলাম।কারণ খালি পাটির উপর শুয়া যাবে না....

একটা ফ্যানও কিনলাম...

এ সব বিথির টাকা দিয়ে কিনা....

কি কি লাগবে বিথি নিজেই পছন্দ করে সব কিনল....


এই সব কিনে বাসায় ফিরতে রাত দশটা বেজে গেল....

দুই জনই খুব ক্লান্ত তাই আজ আর রান্না হবে না...


তারপর....

আমি হোটেল থেকে খাবার কিনে আনলাম....

খাওয়া শেষে এখন শোয়ার পালা....

দুজনই এখন বিছানার উপর...

বিথি নতুন বৌয়ের মত দুই হাটুর উপর মাথা রেখে চুপ করে বসে আছে.... 

আমি ওকে কি বলব ভেবে পাচ্ছি না....


এক বিছানায় দুইজন শুইতেও মন চাইছে না, কিন্তু না শুয়ে যে উপায় নাই....


এদিকে ঘুমে আমার চোখ বন্ধ হয়ে আসছে....

তাই আমি বিথিকে বললাম, আজ তো আমাদের বাসর রাত....


ঘুমিয়েই কাটাবে না স্বামীর একটু খেদমত করবেন?


তখন বিথি একটু মুচকি হাসি দিয়ে বলল,স্বামী বলে যেহেতু পরিচয় দিয়েছি তাই একটু খেদমত করতেই হবে....

এই বলে একটা বালিশ নিয়ে বিথি এক পাসে কাত হয়ে দুই পা ভাজ করে শুয়ে পরল...


Post a Comment

Previous Post Next Post