বিসিএস এক যাতনার নাম


বিসিএস নামক কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে যারা অবতীর্ণ হতে চান তারা কতগুলো বিষয় মাথায় রেখে যাত্রা শুরু করতে পারেন।


(১) দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার-- 


বিসিএস নামক সোনার হরিণ পাওয়ার পথটা কুসুমাস্তীর্ণ নয় বরং অনেক বেশি কণ্টকাকীর্ণ ও পিচ্ছিল। দুর্গম এই দীর্ঘ পথ পারি দেওয়ার জন্য আপনার ধৈর্য শক্তি থাকতে হবে।


(২) চেষ্টায় পুরস্কার--


বিসিএস সফলতা নিরন্তর চেষ্টার ফসল। আমি ২০১২ সাল থেকে চেষ্টা শুরু করেছিলাম আর ২০১৭ এসে সফল হয়। আমি ছোট-খাট চাকরি করেও আমার লক্ষ্যে অটুট ছিলাম। মধ্য যুগের লায়লী-মজনু কাব্যের কবি দৌলত উজির বাহরাম খান বলেছেন-


           ফুল বিনা বৃক্ষে যেন ফল না ধরে।

            কর্ম বিনা চেষ্টায় মানস না পুরে।।


(৩) কপালের লিখন না যায় খণ্ডন--


অনেকে দেখা যায় প্রথম বারেই বিসিএস হয়ে যায়। আবার অনেকে ৫-৬ বার দিয়েও হয় না। আমি ৩৩ ও ৩৪ এ প্রিলিতেও টিকি নাই। ৩৫ এ রিটেন ফেল। যদি আপনার কপালে বিসিএস থাকে সেটা আপনি পাবেনই।


(৪) আমার যত নালিশ বুঝে আমার বালিশ-


যখন আপনি ব্যর্থ হতে থাকবেন আপনাকে সান্ত্বনা দেওয়ার কেউ থাকবে না। সবাই কাটা গায়ে নুনের ছিটা দেওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকবে। আপনার বুকের মধ্যে শূন্যতার হাহাকার বন্দী পাখির মত পাখা ঝাপটাবে। যখন রাত গভীর হবে তখন অন্ধকার ঘরে নিজের বুক ভরা কষ্ট  অশ্রুর মাধ্যমে বিসর্জন দিবেন। আবার ভোরের আলোর মত নিজেকে চাঙ্গা করে নিবেন। হতাশা আসবে কিন্তু সেটাকে স্থায়ী হতে দিবেন না। অদম্য মানসিক শক্তি আপনাকে টিকিয়ে রাখবে। সময়ের সাথে সাথে সেটা অর্জন করার চেষ্টা করবেন।


বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ- আমি ব্যর্থ হতে হতে সফল হওয়া একজন মানুষ। তাই যারা অতিরিক্ত মেধাবী তারা আমার কথাগুলো ধর্তব্যের মধ্যে আনবেন না।


আবদুল-আল-মামুন

৩৬তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা)

প্রভাষক, বাংলা,

সাতকানিয়া সরকারি কলেজ।

Post a Comment

Previous Post Next Post