১৮৯৮ সালের ১৭ জুন নেদারল্যান্ডের জন্মগ্রহন করেন এম সি এশার । ছোটোবেলায় অনেকটা সময় তিনি অসুস্থ ছিলেন । কিন্তু কাঠ কেটে বিভিন্ন ডিজাইনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট দক্ষ ছিলেন। গ্রাফিক শিল্পী স্যামুয়েল জেসুরুন ডি মেসকিটার অধীনে অধ্যয়নরত থাকার সময় সজ্জাসংক্রান্ত আর্টে

বিশেষ পারদর্শী হয়ে ওঠেন ।বিশেষ কিছু স্থাপত্যের জটিল ডিজাইন তাকে বার বার আকর্ষন করত । নেদারল্যান্ডের ডাকটিকিট ও ডাক সংক্রান্ত স্ট্যাম্প গুলো ডিজাইন করার সুযোগ পান । তারপর তিনি তাঁর কাজে গাণিতিক চিন্তা ভাবনা কাজে লাগাতে শুরু করেন । এবং ইলিউশান ও টাইলিং -এর ক্ষেত্রে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন । তাঁর  তৈরী করা গণিত মিশ্রিত  ধাঁধাময় রহস্যজনক ছবি গুলো এখনো মানুষকে ভাবিয়ে তোলে ।

[ চিত্র-১ ] শিল্পী: এম সি এশার , ছবির নাম: sky and water I

এটা এশারের, 'রেগুলার ডিভিশান অফ এ প্লেন' এর ছবি। অসাধারন একটি টাইলিং। অনুভুমিক ভাবে মাছ ও পাখি এর ছবি দিয়ে সাজানো। যেখানে sky আর water মিশেছে সেখানে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, মাছ গুলির মাঝে যে স্থান বাকি আছে সেখানে পাখির ছবি তৈরী হয়েছে।

[ চিত্র-২ ]  ছবি তে আছে কিছু সাদা আর কালো পাখি। আর সাদা পাখি গুলোর মাঝের ফাঁকা স্থানে তৈরী হয়েছে কালো পাখি গুলি বা উল্টোটা । অর্থাৎ শুধু এই দুই রকমের পাখির ছবি দিয়েই সম্পূর্ণ মেঝেকে ঢেকে দেওয়া যায় (কোনো ফাঁক থাকে না) । গণিতের ভাষায় যাকে বলে 'টাইলিং' । এখনেদুটি পাখির ছবি দিয়েই সম্পূর্ণ মাঝে ঢাকা সম্ভব কারন এটা একটা 'পর্যায়ক্রমিক টাইলিং' বা periodic tiling ,একই ছবি বারবার পুনরাবৃত্ত হয় । টাইলিং আবার অপর্যায়ক্রমিকও হয়ে পারে অর্থাৎ একই চিত্রের বারবার পুনরাবৃত্তি হবে না । এই ধরনের টাইলিং এর উদাহরন হল পেনরোজ টাইলিং। চিত্রকর এশার তাঁর অনেক কাজে পর্যায়ক্রমিক টাইলিং ব্যবহার করেছেন ।





Post a Comment

Previous Post Next Post