ডেটাবেজকে বলা হয় তথ্যভাণ্ডার। ডেটাবেজ (Database) হলাে কম্পিউটারভিত্তিক একটি সিস্টেম, যার সাহায্যে সংগ্রহ করা উপাত্ত সংরক্ষণ করে প্রয়ােজন অনুযায়ী পুনরুদ্ধার করা যায়। অন্য কথায়, ডেটাবেজ হচ্ছে সংগ্রহ করা উপাত্তের ভাণ্ডার, যা থেকে প্রয়ােজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিভিন্ন উপায়ে এবং আকারে তথ্য সংগ্রহ করা যায়। আরও সহজভাবে বলতে গেলে, ডেটাবেজ হলাে অসংখ্য উপাত্তের একটি সুসজ্জিত তালিকা, যেখান থেকে নির্দিষ্ট প্রয়ােজনীয় কোনাে উপাত্তকে দ্রুত এবং খুব সহজেই শনাক্ত করার উপায় বা পন্থা আছে। এ তথ্যভাণ্ডারে বিভিন্ন প্রকার এবং বিপুল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ করে রাখা হয়। একজন ব্যবহারকারী তার প্রয়ােজন অনুযায়ী যেকোনাে মুহূর্তে যেকোনাে তথ্য এ তথ্যভাণ্ডার থেকে আহরণ বা সংগ্রহ করতে পারেন।
ডেটাবেজকে ‘তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম’ (Database Management System=DBMS) হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। তথ্যভান্ডারে সংরক্ষিত তথ্য বিভিন্ন প্রকার ব্যবস্থাপনা কাজে ব্যবহৃত হয় বলে ডেটাবেজকে ‘তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম’ বলে অভিহিত করা হয়। কাজের সুবিধার জন্য বিভিন্ন শ্রেণীর তথ্য বিভিন্ন নামে বা নথিতে সংরক্ষণ করা হয়। এতে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পেতে সুবিধা হয়।
একটি ডেটাবেজ মূলত কলাম এবং সারির নিয়ে গঠিত। প্রত্যেকটি কলামের একটি করে হেডিং বা শিরােনাম থাকে। এই হেডিং বা শিরােনাম থেকেই বােঝা যায় সেই কলামে কী ধরনের ডেটা বা তথ্য আছে। হেডিং বা শিরােনামগুলাে ফিল্ড নামে পরিচিত। আর পাশাপাশি কয়েকটি কলাম নিয়ে তৈরি হয় একটি সারি। প্রতিটি সারিকে বলা হয় রেকর্ড।
এখানে SL No, Name, Age, Date of Birth, Village, Union নামের প্রতিটি কলম হলাে এক একটি ফিল্ড এবং এসব ফিল্ডের অধীনে রয়েছে যথাক্রমে Abul Kasem, 2 , 2/2/1960, Tepra, Kanihat ইত্যাদি ডেটা। একই সারির এরকম কয়েকটি ফিল্ড মিলে হয় একটি রেকর্ড। উপরের উদাহরণের ডেটাবেজটিতে ৬টি ফিল্ড এবং ৬টি রেকর্ড রয়েছে।
ষাটের দশক থেকে কম্পিউটারে ডেটাবেজ ফাইলে ডেটা সংরক্ষণ শুরু হয়। তখন একটি ডেটাটেবিলের সমন্বয়ে একটি ডেটাবেজ গঠিত হতাে। কিন্তু বর্তমানে ডেটাবেজ ধারণা অনেক ব্যাপকতা লাভ করেছে। এখন কোনাে ডেটাবেজের আওতায় এক বা একাধিক ডেটাটেবিল, কুয়েরি, ফর্ম, রিপাের্ট, ইত্যাদি ফাইল থাকতে পারে। অর্থাৎ ডেটাবেজ হচ্ছে ডেটা তথ্যসমৃদ্ধ এক বা একাধিক ফাইলের সমষ্টি। উল্লেখযােগ্য কয়েকটি ডেটাবেজ প্রােগ্রাম হলাে মাইক্রোসফট এক্সেস, ফক্সপ্রাে, ডিবেজ, ফক্সবেইজ, ওরাকল, ফোর্থ ডাইমেনশন, প্যারাডক্স প্রভৃতি।
Post a Comment