গল্পঃ না বলা ভালোবাসা

পর্বঃ ২
#collected....

তানজিলঃ সরি ভাইয়া আমি ভুলেই গিয়ে ছিলাম, আপনি একটু অপেক্ষা করেন আমি আমার বন্ধুকে ফোন দিয়ে সব ব্যবস্হা করে দিচ্ছি......
এটা বলেই তানজিল ফোনটি কেটে দিয়ে, নিজের সেই পুরানো আইফোন মোবাইলটি আবার অন করে ম্যানেজারকে ফোন দিল....
তানজিল ফোন দিতেই ম্যানেজারের মোবাইলটি বেজে উঠলো....
ম্যানেজার মোবাইলে হাতে নিয়েই দেখতে পেলো তানজিলের নাম্বার অর্থাৎ প্রায় ৩ বছরের উপরে হয়ে গেছে, তানজিলের খোঁজ নেই.....
কিন্তু তানজিলের নাম্বারটা আজো ম্যানেজারের মোবাইলে সেভ করা রয়ে গেছে....
তারপর ম্যানেজার ফোনটি রিসিভ করেই তানজিলকে সালাম দিলো...
আর বলতে লাগলো....
ম্যানেজারঃ কেমন আছে বাবা...??
আর এখন তুমি কোথায় আছো....??
তানজিলঃ ওয়ালাইকুমআসসালাম, আমি যেখানেই আছি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি....
আপনি কেমন আছেন...???
ম্যানেজারঃ ভালো না থাকলেও তোমার ফোন পেয়ে এখন অনেকটাই ভালো আছি....
তানজিলঃ আচ্ছা আংকেল যে কারনে আপনাকে ফোন দেয়া হয়েছে.....
আপনার কাছে নিহাল নামের কেউ এসেছিল...??
ম্যানেজারঃ হ্যাঁ বাবা চাকুরীর জন্য এসেছিল....
তানজিলঃ আপনি নিহাল ভাইয়ার কাছে ৫,০০,০০০ টাকা চেয়েছেন এটা সত্যি....??
ম্যানেজারঃ সরি বাবা আমার ভুল হয়ে গেছে....
তানজিলঃ ইট'স ওকে....
আর মূল কথা হচ্ছে নিহাল ভাইয়াকে চাকুরি দেয়ার পর যদি কোন পোস্ট খালি থাকে, তাহলে অন্যরা চাকুরি করবে....
এছাড়া কোন লোক চাকুরিতে আমি যেন নিয়োগ না দেখি...
নিহাল ভাইয়াকে চাকুরিতে জয়েন দিয়ে অগ্রিম বেতনের ১ মাসের ৭৫,০০০ টাকা দিয়ে দিবেন....
আর হ্যাঁ আমি যে ফোন করেছি আমার ফ্যামিলির কেউ যেন না জানে, আর যদি কোন মতে জানতে পারে তাহলে আপনার লাল বাতি জ্বলবে কথাটি মনে রাখবেন....
আর হ্যাঁ আরেকটি কথা নিহাল ভাইয়া যেন না জানতে পারে আমি আপনাকে ফোন দিয়েছি....
আর নিহাল ভাইয়ার যেন কোন সমস্যা না হয়, যদি জানতে পারি কোন প্রবলেম হয়েছে, তাহলে এর মাশুল আপনাকেই দিতে হবে....
ম্যানেজারঃ তুমি নিশ্চিত থাকো বাবা তোমার কথার বাহিরে কিছুই ঘটবে না....
এই ভাবেই ম্যানেজার আর তানজিলের মধ্যে কথা হয়...
অবশেষে ম্যানেজার বাহির থেকে নিহালকে ডেকে এনে অনেক আপ্যায়ন করতে লাগলো এবং তানজিলের কথামতো অগ্রিম ১ মাসের বেতন পেইড করে দিল....
আর এই দিকে নিহাল বেচারা শুধু অপলোক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, কি হচ্ছে সে কিছুই বুঝতে পারছে না....
তার পর সেখান থেকে ১ মাসের অগ্রিম বেতন হিসাবে ৭৫,০০০ পেয়ে অনেক খুশি হয়ে, তানজিলের জন্য মিষ্টি নিয়ে আসলো....
অতঃপর নিহালঃ তানজিল তুমি এদিকে এসো, তোমার কথা মতো সেখানে যাওয়াতে আমার চাকুরি হয়ে গেছে....
আর সাথে ১মাসের বেতন হিসাবে ৭৫,০০০ টাকা অগ্রিম দিয়ে দিয়েছে....
তানজিলঃ Congratulation ভাইয়া....
Cute couple - Posts | Facebook

নিহালঃ তানজিল সম্পূর্ণ ক্রেডিটটাই কিন্তু তোমার ছিল, তাই ধন্যবাদ দিয়ে তোমাকে ছোট করতে চাইনা....
তানজিলঃ ভাইয়া এটা মানতে পারলাম না...
কারন, আপনার যোগ্যতা দিয়ে আপনি তা অর্জন করেছেন....
আর ধন্যবাদ যদি দিতে হয় তাহলে আল্লাহকে দেন, কেননা তিনিই সব কিছুর ব্যবস্হা করেছেন....
নিহালঃ ওকে ভাই এখন তোমরা সবাই মিষ্টি খাও.....
এই ভাবেই কথাবার্তা শেষ করে সবাই মিষ্টি খেতে লাগলো....
আর চাকুরির সুবিধার্তে নতুন সুখময় জীবনের সন্ধান মিলে নিহালের....
আর এই দিকে মেডিকেলের এডমিশন টেস্ট ও প্রায় কাছাকাছি.....
সুস্মিতার সহযোগিতায় সারা রাত জেগে পড়া-শোনা করে অনেক কষ্টে ঢাকা মেডিকেলে চান্স পেয়ে যায় তানজিল....
কিন্তু সুস্মিতার চান্স হলো না....
সুস্মিতা চান্স পেলো চিটাগাং মেডিকেলে....
যার কারনে তাদের মধ্যে একটা দূরত্ব দেখা দেয়.....
আগের মতো সুস্মিতা চাইলে ও তানজিলকে আর সহযোগিতা করতে পারে না....
কারন, ২ জনের পড়া-শোনা এখন ২ জায়গায়....
তাই তানজিলকে অনেক প্রবলেম ফেস করতে হয়....
এখন তানজিল রেস্টুরেন্টে কাজের পাশাপাশি টিউশনি ও করে....
কারন যেই ভাবেই হউক পড়া-শোনাটা তো ঠিক রাখতে হবে....
আর অপর দিকে তানজিলের মেডিকেলের আজকে প্রথম দিন...
সবাই ভালো জামা-কাপড় পড়ে মেডিকেলে গেলো.....
কিন্তু, তানজিল সেই পুরানো ফুটপাতের জামা-কাপড় পড়েই মেডিকেলে গেল....
সবাই তানজিলকে দেখে খ্যাত বলে ধিক্কার দিচ্ছে....
অনেকে তানজিলের কাছ থেকে অনেক দূরে থাকে, এই সব দেখে তানজিলের অনেক কষ্ট হতো কিন্তু তার পরে ও অনেক কষ্টে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে.....
এই ভাবেই ক্লাস শেষ করে রেস্টুরেন্টে গিয়ে আবার কাজ শুরু করলো....
অর্থাৎ এমন সময় সুস্মিতার ফোন....
সুস্মিতাঃ তানজিল তুমি আমার সাথে একটু দেখা করতে পারবে....??
তানজিলঃ সুস্মিতা আমার এখন ভীষণ কাজের চাপ, তাই তোমার সাথে দেখা করতে পারবো না....
আমি তোমাকে রাত ১১ টার পর ফোন দিবো কেমন....
সুস্মিতাঃ আচ্ছা তানজিল মেডিকেলে ক্লাস করতে গিয়ে তোমার কোন প্রবলেম হয়েছে....???
তানজিলঃ না তো,,কিসের প্রবলেম হবে....
সুস্মিতাঃ তুমি আমার সাথে মিথ্যে বলছো কেনো....??
তুমি কি ভাবছো তোমার কোন খোঁজ-খবর আমি রাখি না...???
শুনো একটা কথা বলে দেই....
আগামীকাল থেকে তুমি নতুন জামা পড়ে ক্লাস করতে যাবে আর হ্যাঁ আমি তোমার জন্য কিছু শার্ট-প্যান্ট কিনতে শপিং এ আসলাম, সুতরাং তুমি আমার সাথে দেখা করে সেই গুলো নিয়ে যেও....
তানজিলঃ সরি সুস্মিতা তোমার কথা আমি রাখতে পারলাম না....
আমি মেডিকেলে যাবো শিক্ষা অর্জন করে ডাক্তার হওয়ার জন্য, কোন হাই-কোয়ালিটি পোশাক পড়ে মডেল হওয়ার জন্য নয়....
আর আমার যা আছে আমি তাই পড়েই ক্লাসে যাবো সুতরাং এতে কে কি মনে করে, তাতে আমার কিছু আসে যায় না....
আর আমাকে নিয়ে এতো কিছু ভাববার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ...
তুমি ভালো থেকো আর আমি ফ্রি হলে তোমার সাথে দেখা করবো কেমন....
এটা বলেই তানজিল ফোনটা কেটে দেয়....
অন্যপাশ থেকে তানজিলের কথা গুলো শুনে সুস্মিতার চোখের পানি গুলো অটোমেটিক পড়তে লাগলো...
কারন, কি করে একটা মানুষ এতো ধৈর্যশীল হয়....
এই ভাবেই তানজিল আর সুস্মিতার জীবন চলছে.....
একজন আরেকজনকে ভীষণ ভালোবাসে কিন্তু ভালোবাসার কথাটি আজ পর্যন্ত কেউ কাউকে বলতে পারে না....
আর অন্য দিকে তানজিলের ফ্যামিলি তানজিলকে হারিয়ে এক বুক শূন্যতা নিয়ে তানজিলের অপেক্ষায় আজো প্রহর গুনছে....
এই ভাবেই যাচ্ছে দিন কাল...
মেডিকেলে গেলেই তানজিলকে অনেক অপমানিত হতে হয় কিন্তু তানজিল সব কিছুই মুখ বুঝে শয়ে যায় নিরবে....
তার পরে ও নিজের পরিচয় একটি বারের জন্য কারো কাছে প্রকাশ করে না....
আর তানজিলের সাথে যা যা ঘটে সব কিছুই সুস্মিতা জানতে পারে তার এক বান্ধবীর মাধ্যমে....
সুস্মিতা প্রতি রাতেই ফোন দিয়ে তানজিলকে বুঝাতে অনেক চেষ্টা করে কিন্তু তানজিল কখনো সুস্মিতার এই কথা শুনতে রাজি না....
কারন, তানজিল আজ ধনীদের সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে.....
যার কারনে সে সাদা-সিদে সাধারন জীবনটাকেই বেছে নিয়েছে.....
এভাবেই চলতে ছিলো সবার জীবন কিন্তু হঠাৎ করেই একদিন সুস্মিতার বিয়ে ঠিক হয়ে যায়, ভালো চাকুরিজীবি ছেলের সাথে....
যার বেতন মাসিক প্রায় ১,০০,০০০+
এসব শুনে সুস্মিতা তার আব্বুকে বলতে লাগলো....
সুস্মিতাঃ আব্বু আমি এই বিয়ে করতে পারবো না....???
আব্বুঃ কেনো কি হয়েছে....??
সুস্মিতাঃ কিছু হয় নি,আমি আগে নিজের পায়ে দাড়াবো তারপরে বিয়ে করবো কিন্তু এর আগে নয়....
আব্বুঃ বিয়ের পরে ও তো জামাই তোকে ডাক্তারি পড়াবে সুতরাং বিয়েতে প্রবলেম কোথায়....???
সুস্মিতাঃ আমি এখন বিয়ে করতে পারবো না এটাই প্রবলেম....
আব্বুঃ ছেলে দেখতে সুন্দর অনেক ভদ্র এবং ভালো বেতনের চাকুরি করে সুতরাং এই বিয়ে আমি হাত ছাড়া করতে পারবো না....
তোর বিয়ে হবে এবং ঐ ছেলের সাথেই হবে এটা আমার লাস্ট কথা......

হ্যালো, বন্ধুরা আপনারা যারা নিয়মিত গল্প
পড়তে আগ্রহি, তারা আমার এই সাইটটিতে সাবস্ক্রাইব করে রাখতে
পারেন , আমি নতুন পস্ট করলেই আপনাদের কাছে নোটিফিকেশন
চলে যাবে

Post a Comment

Previous Post Next Post