মানবদেহে যে প্রতিরক্ষা অমরার মাধ্যমে প্রাপ্ত ও জন্মের সময় থেকে আজীবন উপস্থিত থাকে এবং প্রতিরক্ষায় দ্রুত কার্যকর হয় তাকে সহজাত প্রতিরক্ষা বলে। এটি নন-স্পেসিফিক ইমিউনিটি। মানবদেহের সহজাত প্রতিরক্ষায় নিচে বর্ণিত উপাদানগুলো সক্রিয় অংশগ্রহণ করে।

  • প্রতিবন্ধক (Barriers) : প্রতিবন্ধক টিস্যুগুলো হচ্ছে ত্বক, পোষ্টিকনালি, শ্বসনতন্ত্রের বিভিন্ন অংশ এবং নারীদের ক্ষেত্রে জনননালির প্রাচীর প্রধান প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে।
  • প্রদাহ (Inflammation) : টিস্যুর কোনো ক্ষতি হলে মাস্টকোষের তৎপরতায় নানা ধরনের কণিকা বিশেষ করে নিউট্রোফিল ও ম্যাক্রোফেজ জড়ো হয়ে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করে যন্ত্রণাদায়ক অবস্থার অবসান ঘটে।
  • কমপ্লিমেন্ট (Complement) : অন্ততঃ ২০ ধরনের প্লাজমা প্রোটিনে গঠিত এমন একটি আন্তঃসম্পর্কিত গ্রুপ যা নিস্ক্রিয়ভাবে রক্তে সংবহিত হয়ে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা পদ্ধতিতে সাহায্য করে তাকে কমপ্লিমেন্ট বলে। সক্রিয় হলে অণুজীবের প্লাজমা ঝিল্লিতে আটকে থেকে নিউট্রোফিল ও ম্যাক্রোফেজকে কোষভক্ষণে সহযোগিতা করে, কিংবা কোষ ধ্বংসে অংশ গ্রহণ করে।
  • ইন্টারফেরন (Interferon) : ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এবং কোষের অভ্যন্তরে বংশবৃদ্ধিতে ব্যাঘাত ঘটাতে আক্রান্ত কোষ থেকে ইন্টারফেরন নামক বিশেষ ধরনের গ্লাইকোপ্রোটিন উৎপন্ন ও ক্ষরিত হয়ে দেহকোষকে রক্ষা করে।
  • সহজাত মারণকোষ (Natural killer cells) : এগুলো লিস্ফোসাইট জাতীয় বিশেষ শ্বেত-রক্তকণিকা যা টিউমার কোষ ও ভাইরাসে আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করে।
  • সহজীবী ব্যাকটেরিয়া (Symbiotic bacteria) : পরিপাকতন্ত্র, ত্বক ও নারীদের জননতন্ত্রে অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া স্থায়ীভাবে বসবাস করে। এগুলো ক্ষতিকর নয়, বরং উপকারী ব্যাকটেরিয়া (যেমন কোলনে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়া ভিটামিন k সংশ্লেষ করে)। কিছু অণুজীব রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরণ করে অনুপ্রবিষ্ট জীবাণুর বৃদ্ধি রহিত করে দেয়।

Post a Comment

Previous Post Next Post