ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (Virtual reality) হলাে কম্পিউটার এবং বিভিন্ন প্রকার সেন্সর এর সমন্বয়ে গঠিত একটি পরিবেশ যার অস্তিত্ব থাকতে পারে আবার সম্পূর্ণ কাল্পনিক হতে পারে। যেমন- সৌরজগতের ধারণাকে কাজে লাগিয়ে কম্পিউটার, স্পিকার, বিভিন্ন ছবি বা চিত্র বিশেষ পদ্ধতিতে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হয় যা প্রদর্শনের পর দর্শকের মনে হবে যেন সে সৌর জগৎ প্রদক্ষিণ করেছেন। এখানে অভিজ্ঞতা এবং কল্পনা শক্তি কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বপ্নের ভুবন তৈরি করা হয়।


প্রাত্যহিক জীবনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রয়ােজনীয়তা
প্রাত্যহিক জীবনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রয়ােজনীয়তা অপরিসীম। মাল্টি সেন্সরিং হিউম্যান কম্পিউটার ইন্টারফেসসমূহের ব্যবহার বা মানব ব্যবহারকারীর কম্পিউটার সিমুলেটেড অবজেক্ট বাস্তবতার কাছাকাছি নিয়ে যায়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে বাস্তব জগৎ তৈরি হয়। তথ্য আদান-প্রদানে প্রাত্যহিক জীবনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রভাব লক্ষ করা যায়। বিভিন্ন চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার লক্ষণীয়। একজন ব্যক্তির শূন্যে উড়ে যাওয়া, ভবন থেকে লাফ দিয়ে নিচে পড়ে যাওয়া, বিমান ধ্বংস করা কিন্তু বিমানের মধ্যে চালকের কোনাে ক্ষতি না হওয়া প্রভৃতি দৃশ্য আজকাল দেখা যায়। গাড়ি চালানাের ক্ষেত্রে, বিল্ডিং ডিজাইনে এবং বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় কাজে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার দিন দিন বেড়ে চলছে। শিল্প কারখানায় উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে সিমুলেশন করা হয়। ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরুর পূর্বে উৎপাদন সংক্রান্ত ঝুঁকি মােকাবেলা করা সহজ হয়। গেমস তৈরিতে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যাপক প্রয়ােগ লক্ষ করা যায়।


চিকিৎসায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার
চিকিৎসাক্ষেত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রয়ােগের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ভুল ও ঝুঁকি এড়ানাে সম্ভব। সেজন্য আগামীতে প্রাত্যহিক জীবনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রভাব পড়বে। কারণ সিমুলেটেড সার্জারির মাধ্যমে নতুন ডাক্তার ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব। আবার সিমুলেটেড রােগীর ওপর নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে চালানােও সম্ভব।


ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রভাব
ভার্চুয়াল রিয়েলিটির যেমন ভালাে দিক রয়েছে তেমনি এর নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। প্রাত্যহিক জীবনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রভাব আলােচনা করা হলাে:

  • চিকিৎসাক্ষেত্রে সিম্যুলেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করে ডাক্তার ও নার্সদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
  • মিলিটারি প্রশিক্ষণে ফ্লাইট সিমুলেটর ব্যবহার করে বিমান চালানাে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
  • সৈন্যদের অস্ত্রচালনার জন্য ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হয়। ফলে সৈন্যদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যায়।
  • কোনাে অবকাঠামাে যেমন: ব্রিজ, ফ্লাইওভার, বিল্ডিং, শপিং কমপ্লেক্স তৈরির পূর্বে আমরা তার সিম্যুলেটেড সফটওয়্যার তৈরি করে বাস্তবের অবস্থা দেখতে পারি।
  • ব্যবসা-বাণিজ্যে তথ্য ও যােগাযােগ ব্যবস্থাকে সহজ করার জন্য ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হয়।
  • ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহারকারী কম্পিউটারে সহজ ও সুন্দরভাবে ফাইল সংরক্ষণ করতে পারবে এবং সহজে তা খুঁজে বের করতে পারবে এবং তাকে বাস্তবের ফাইল ড্রয়ার খােলার অনুভূতি প্রদান করবে।
  • ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে ভিডিও গেমস খেলা যায়, যা বাস্তবের অনুভূতি প্রদান করে।
  • ঝুঁকিপূর্ণ কাজের জন্য সিমুলেশন সফটওয়্যার ব্যবহার করে মানুষের জীবনকে অনেক বেশি বৈজ্ঞানিক ও ঝুঁকিপূর্ণ করবে।
  • ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহারের ফলে মানুষের চিন্তা-চেতনায় ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। ফলে সামাজিক জীবনে এর প্রভাব ফেলবে। যেমন: উন্নত দেশে বড়দিনের উৎসবে উদাহরণস্বরূপ ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সম্পর্কিত যন্ত্রপাতি, সফটওয়্যার ও ছায়াছবি প্রদান করা হয়।
  • ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে অবাস্তব সব দৃশ্যকে বাস্তব দৃশ্যে পরিণত করা হচ্ছে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে টাইটানিক, সিন্দাবাদ, স্পাইডারম্যান ইত্যাদি বিভিন্ন ছবিতে আশ্চর্যজনক দৃশ্য তৈরি করা হয়। ফলে বিনােদনে এসেছে নতুন মাত্রা।
  • ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হয়।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ইতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে । ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ব্যবহৃত যন্ত্ৰসমূহ উচ্চমূল্য এবং সফটওয়্যারসমূহ তৈরি করাও জটিল ও ব্যয়বহুল।

Post a Comment

Previous Post Next Post