এই যে শুনছেন?

মাথা ঘুরিয়ে দেখি একটা মেয়ে কেবিনে ভিতরে বসে আছে....
মেয়েটার একটা হাত জানালা দিয়ে বের করে রেখেছ....
তার হাতে টাকার মত কিছু একটা দেখা যাচ্ছে...
আমি কিছু না বলে একবার তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নিলাম...
মেয়েটা বলল,আপনাকেই বলেছিলাম....
আমাকে একট পানির বোতল এনে দিবেন?
লঞ্চের কেন্টিনটা কোথায় আমি তা জানি না...
আমি হাত বারিয়ে টাকাটা নিয়ে কেন্টিনের দিকে পা বারালাম...
মেয়েটা আমাকে দশ টাকা দিয়েছে কিন্তু পানির দাম পনের টাকা....
এই পানির বোতল সবখানেই দশ টাকা কিন্তু এখানে পনের টাকা....
এখন কি করব?
পাঁচ টাকা নিজের থেকে দিব?
না মেয়েটার কাছ থেকে নিয়ে আসব?
কেন্টিনটা লঞ্চের নিচ তলার শেষের দিকে....
আর মেয়েটা যে কেবিনে আছে তা দোতলায় লঞ্চের প্রথম দিকে...
যাওয়া আসা ঝামেলা মনে করে পকেট থেকে পাঁচ টাকা বের করে পানি কিনে আনলাম...
মেয়েটা জানালা বন্ধ করে রেখেছে...
একবার টোকা দেওয়ার জন্য হাত উঠিয়েও নামিমে ফেললাম....
কিন্তু পানি হাতে দাড়িয়ে থাকতেও একটু অস্বস্থি লাগছে....
তাই টোকা দিয়ে পানির বোতলটা জানালার সামনে ধরলাম....
মেয়েটা জানালার গ্লাস এক পাসে চাপিয়ে
দিয়ে হাত বারিয়ে পানির বোতলটা নিল...
আমি লক্ষ করলাম মেয়েটা কেবিনের ভিতরে একা...
এবং লাইটের আলোতে দেখলাম মেয়েটার ফর্সা দুগাল বেয়ে পানি গরিয়ে পরছে...
মেয়েটা কান্না জরানো কন্ঠে ধন্যবাদ বলে জানালার গ্লাস টেনে দিল....
আমি আবার নদীর দিকে মুখ করে দাড়িয়ে রইলাম...
চাঁদের আলোয় নদীর পানি ঝলমল করছে, বৈশাখ মাস আবার কখন যে চাঁদকে আড়াল করে ঝড়বৃষ্টি শুরু হবে তাও বলা যায় না....


ঝড়ের কথা মনে হতেই বুকের ভিতর কষ্ট হুহু করে উঠে, এই ঝড়ই আমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছে, আমাকে অসহায় করেছে, আমাকে এতিম করেছে, মনটা খারাপ হয়ে গেল.....
লঞ্চের ডেকে প্রচন্ড জ্যাম,পা ফেলার জায়গাটুকুও নাই....
আমি যেখানে দাড়িয়ে আছি সেখানে কেবিনের লোক ছারা ঢোকা নিষেধ....
কেবিনের দরজার উপরে লাল রং দিয়ে লেখা রয়েছে ডেকের যাত্রিদের ভিতরে ঢোকা নিষেধ....
কিন্তু আমি দাড়িয়ে আছি কেউ কিছু বলছে না...
মনে হয় আজ দাড়িয়েই ঢাকা পৌছাইতে হবে....
ঝিরিঝিরি হাওয়া বইছে,ছোট ছোট ঢেউ লঞ্চের সাথে বারি লেগে সলাৎ সলাৎ শব্দ হচ্ছে....
মনটা চাইছে এখানেই কিছু একটা বিছিয়ে শুয়ে পরি...
কিন্তু সম্ভব না,কারণ বসতে দিলে শুইতে চাওয়া ঠিক না....
এতক্ষন ধরে আপনাদের সাথে বকবক করে যাচ্ছি কিন্তু আসল কথাই বলা হয় নাই...
কে আমি?
তাহলে শুনুন...
বাবা মায়ের দেওয়া নাম রাসেল আহমেদ....
কয়েক দিন আগে এইচ এস সি পরীক্ষা শেষ হল....
গ্রামের কিছু লোক ঢাকাতে থাকে তাদের কাছেই যাচ্ছি...
যদি কোন কাজের ব্যবস্থা করতে পারি তাহলে ঢাকাতে থেকেই পড়াশুনা চালিয়ে যাব....
আমার নিজের কথা বলতে গেলে চোখে জল চলে আসে,তাই অন্য সময় বলব....
কানতে আর ভাল লাগে না...
এদিকে দাড়িয়ে থাকতেও আর ভাল লাগছে না....
বাতাসও ভারি হয়ে একটু ঠান্ডায় রুপ নিল, দুচোখ ভেঙ্গে ঘুম আসতেছে....
সাথে থাকা ব্যাগের উপর বসে ঝিমুতে লাগলাম, কখন যে গভির ঘুমে তলিয়ে গেলাম তা বুঝতে পারি নাই...
লোকজনের চিৎকার চেচামেচিতে ঘুমটা ভেংগে গেল....
চোখ দুটো হাত দিয়ে কসলায়ে চেয়ে দেখলাম লঞ্চের ভিতরে মহিলাদের আহাজারি....
ছোট ছোট বাচ্চারাও আল্লাহ্ আল্লাহ্ বলে চিৎকার করছে....
যারা নিরবে বসে আছে তারা দোয়া ইউনুছ পড়ছে....
লঞ্চটা কখনও দুলছে আবার কখনও শুন্য উঠে যাচ্ছে....
পাহাড়ের মত ঢেউ উচু হয়ে আচঁড়ে পরছে লঞ্চের গায়ে,সাথে ভারি বৃষ্টিও হচ্ছে....
আমি উঠে দাড়াইয়া দুহাত দিয়ে শক্ত করে রেলিংটা ধরলাম...
লক্ষ করলাম কেবিনে থাকা মেয়েটাও আমার পিছনে দাড়িয়ে আছে....
কেবিনের দরজা ধরে চোখের পানি ছেরে বিরবির করে দোয়া দরুদ পড়ছে....
অন্যান্য কেবিনের থেকেও সবাই বের হয়ে এসেছে....
আমার মত কেউ রেলিং ধরেও দাড়িয়েছে, কেউ আবার কেবিনের দরজা জানালা ধরে বিভিন্ন মানত করে কানতেছে....
পুর লঞ্চটা জুরে কান্নার রোল পরে গেল....
সেরাং সাহেব লঞ্চেটাকে কন্ট্রোল করতে পারছে না ঢেউ বারি দিয়ে সব উলট পালট করে দিচ্ছে, হাতে থাকা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম তিনটার মত বাজে....
লঞ্চ এখন কোথায়?
মাঝ নদীতে, না পাড়ের কাছে কিছুই বুঝা যাচ্ছে না...
চারিদিকে অন্ধকার, আসেপাসে কোন জেলের নৌকা বা অন্য কোন লঞ্চেও দেখা যাচ্ছে না....
হঠাৎ করে লঞ্চের দোলনি বেরে গেল.....
মেয়েটা নিজেকে কন্ট্রোল না রাখতে পেরে আমার পিঠের উপর পরে গেল....
আমার মেরুদন্ডের উপর ওর নাকটা এসে পড়ল...
আমি একটু ব্যাথাও পেলাম....
ঘুরে দেখি মেয়েটা নাক ধরে নিচে বসে আছে...
পাসে থাকা মহিলা তার বাচ্চাকে বলল,শক্ত করে ধর নইলে তুমিও পরে যাবে...
মেয়েটা আমার দিকে ওর একটা হাত উচু করে তুলতে বলছে....
কি করব বুঝে উঠতে পারছি না.....
লঞ্চটা আবারও দোলতে শুরু করল, আমি মেয়েটার এক হাত ধরে টেনে উঠিয়ে আমার পাসে দাড় করিয়ে দিলাম.....
এক হাত দিয়ে নাক আর অন্য হাত দিয়ে রেলিং ধরে দাড়াল....
ঝড় থামার কোন লক্ষন নাই,বরং বাতাসের গতি বেরেই চলছে.....
মনে মনে আল্লাহকে ডাকতে শুরু করলাম।লক্ষন মোটেও ভাল লাগছে না.....
একবার ভাবলাম নিচের থেকে ঘুরে আসি কিন্তু মন সায় দিলনা.....
হঠাৎ করে লঞ্চটা কিছুর সাথে খুব জোরে ধাক্কা লাগল....
দাড়ানো লোকগুলো হুড় মুরিয়ে একজন আরেকজনের উপর পরে গেল....
যারা বসেছিল তারাও ছেচরিয়ে সামনের দিকে চলে এল....
আর আমি পরলাম মেয়েটার উপরে.....
কে কার উপর পরল সেদিকে কার খেয়াল নাই....
আমি মেয়েটাকে সরি বলে দাড়িয়ে গেলাম....
মেয়েটাও ফ্লোরের উপর ভর করে উঠে আমার সামনা সামনি দাড়াল....
আমি মেয়েটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম বলে চোখে চোখ পরল.....
ওর চোখের ঝলকে আমার ভিতরে যেন বিজলি চমকে উঠল....
মেয়েটা চোখ সরিয়ে নিল....
সবাই আল্লাহকে জোরে জোরে ডাকতে লাগল.....
কেউ একজন বলে উঠল লঞ্চ চরের উপর উঠে গেছে.....
মানুষ বিভিন্ন কথা বলতে লাগল, কিন্তু বৃষ্টি গতি আরও বেড়ে গেল,রেলিং ধরে দাড়ািয়ে থাকা সম্ভব হচ্ছে না....
এমনিতেই ঠান্ডা বাতাস তার উপরে বৃষ্টির ঝাপটা এসে শরীরে পরতে লাগল....
আমি ছারা সবাই কেবিনে ঢুকে পরল, ডেকের যাত্রিরাও এক পাসে চেপে রইল.....
আমি মেয়েটার জানালার সাথে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে রইলাম....
কিন্তু বৃষ্টির ঝাপটা থেকে রেহাই পাচ্ছি না.....
শরীরটা ভিজে ঠান্ডায় কাঁপতে লাগলাম, এভাবে এখানে দাড়িয়ে থাকা আ‌মার পক্ষে অসম্ভব....
কিন্তু ব্যাগ নিয়ে ভির ঠেলে ডেকের ভিতরে ঢুকাও সম্ভব না....
তাই চিন্তা করলাম ব্যাগটা মেয়েটার কেবিনে ভিতরে রেখে তারপর ডেকের ভিতরে যাব....
মানুষের মধ্যে ঢুকে গেলে হয়ত একটু গরম লাগবে....
জানালা টোকা দিতেই মেয়েটা গ্লাস খুলে আমার দিকে তাকাল....
আমি আমতা আমতা করে মেয়েটাকে বললাম.....
আমার ব্যাগটা যদি একটু আপনার কাছে রাখতেন তাহলে আমি ডেকের ভিতরে যেতে পারি....
মেয়েটা বলল, আপনিত ঠান্ডায় কাঁপছেন ভিতরে আসুন...
আমি কিছু না বলে ঠাই দাড়িয়েই রইলাম.....
মেয়েটা আবারও বলল,ভিতরে আমি একা আপনি আসুন এই বলে কেবিনের দরজা খুলে দিল....
কেবিনের ভিতরে দুই পাসে দুইটা সিট, এক পাসের সিটে মেয়েটা পা ঝুলিয়ে বসে আছে....
আর অন্যপাসের সিটের উপর ব্যাগটা রেখে বের হওয়ার সময় মেয়েটা জিঙ্গাসা করল কোথায় যাচ্ছেন?
আমি বলল,এখানে অনেক ঠান্ডা তাই ডেকের ভিতরে যাচ্ছি....
মেয়েটা বলল,আপনার সমস্ত শরীর ভিজে গেছে....
কাপড় চেঞ্জ করে এখানেই বসুন, আমার একা থাকতে খুব ভয় লাগছে.....
কি বলে মেয়েটা ওর সামনে আমি কাপড় চেঞ্জ করব?
একটু ভেবে তোয়ালে বের করে মাথা ও সার্টের ভিতরে তোয়ালে ঢুকিয়ে যতটুকু সম্ভব মুছে নিলাম....
মেয়েটা অন্যদিকে তাকিয়ে আছে....
শরীরটা একটু হালকা মনে হতে লাগল....
মেয়েটা বলল, আপনি কি একা?
আমি হে বলে দরজা খুলতে লাগলাম.....
মেয়েটা বলল, আপনার কি এখানে বসতে অসুবিধা আছে?
সত্যি বলতে কি এমন একটা নির্জন রুমে একটা মেয়ের সাথে একা থাকতে খুব লজ্জা করছে....
আমি কিছু বলছি না বলাতে মেয়েটা আবার বলল,লঞ্চ চরে উঠে গেছে.....
কখন নামবে তারও কোন ঠিক নাই, তাই আপনি আমার সাথে থাকলে কথা বার্তা বলে সময়টা পার করা যেত...
আপনি কি লঞ্চের টিকেট কেটেছেন....
আমি না বলে মেয়েটার সামনে বসলাম....
মেয়েটা বলল, তাহলে কাটার দরকার নাই....
দুজনের জন্য এই কেবিনে ভাড়া হয়েছে এবং দুজনের টিকেটও আমার কাছে আছে....
আমি জিঙ্গাসা করলাম তাহলে আপনকে কত দিতে হবে?
মেয়েটা খিলখিল করে হেসে দিয়ে বলল,আপনার ভাড়াটা অন্য একজন দিয়ে গেছে....
আপনার এক টাকাও দিতে হবে না....
আমি এই প্রথম মেয়েটার দিকে ভাল করে তাকাইলাম.....
অপূর্ব সুন্দর একটা মেয়ে,যার হাসিতে মুক্ত ঝড়ে....
যার মায়াবি চোখে তাকিয়ে থাকলে দুনিয়ার সব কিছুই ভুলে যেতে ইচ্ছে করে, কিন্তু এত মায়া ভরা চোখে থেকে ক্ষনে ক্ষনে পানি কেন ঝড়ছে?
চোখে চোখ পরতেই মেয়েটা চোখ নামিয়ে নিল, হাসি ভরা মুখটায় অমাবশ্যায় রুপ নিল,মাথাটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে রাখল....
আমি আর কিছু না চুপচুপ বসে রইলাম.....
এদিকে বাহিরে ঝড়বৃষ্টি থেমে গেছে,বাহিরে হালকা আলোর রেখা ফুটে উঠেছে....
একটু পর লক্ষ করলাম লঞ্চ থেকে মানুষ জন নেমে চরের বুকে হাটা হাটি করছে.....
ভাবলাম আমিও একটু হেটে আসি এই ভেবে সিট থেকে পা নামিয়ে দাড়ালাম....
মেয়েটা জিঙ্গাসা করল কোথায় যাচ্ছেন?
আমি বললাম, একটু হেটে আসি....
মেয়েটা খুব করুণ কন্ঠে আমাকে বলল আপনার সাথে আমাকে নিবেন??
আমি বললাম, আমার আপত্তি নাই আপনার ইচ্ছে হলে চলুন....
মেয়েটা তার পায়ের কাছ থেকে বোরকা পরে ওড়না দিয়ে চেহেরাটা ভাল করে ঢেকে বলল চলুন....
লঞ্চটা প্রায় ফাকা,সবাই নির্মল হাওয়া উপভোগ করতে চরে হেটে বেরাচ্ছে....
লঞ্চ থেকে নামার সময় খেয়াল করলাম, খালাসিরা আটকে থাকা জায়গার মাটি কোদাল দিয়ে পরিষ্কার করছে....
সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় মেয়েটা হাত বারিয়ে দিয়ে বলল,একটু ধরুন প্লিজ, আমি নামতে ভয় পাচ্ছি......
কি আর করা মেয়েটার হাত ধরে নামতে লাগলাম....
কিন্তু মেয়েটার নরম হাত ধরে দুইশ বিশ বল্টের ইলেকট্রিক সট খেলাম....
আমার শরীরটা অজানা শিহরণে কেঁপে উঠল....
সূর্যটা এখনও লাল আভা ছারেনি পাখিরা ডানা ঝাপটে খাবারের খোজে বের হচ্ছে.....
আসে পাসে কোন বাড়িঘর দেখা যাচ্ছে না....
কৃষক ভোরে শীতল বাতাস গায় মাখিয়ে খেত পরিচর্যায় নেমে গেছে....
পাসাপাসি অনেকক্ষন হাটলাম কিন্তু কোন কথা হল না....
এক সময় আমিই জিঙ্গাসা করলাম, আপনি ঢাকা কোথায় যাবেন?
মেয়েটা দীর্ঘশ্বাস ছেরে বলল,জানি না....
আমি ভাবলাম মনে হয় আমার সাথে ফান করছে....
মেয়েটাকে দেখে ভদ্রঘরের মেয়ে বলেই মনে হয়....
পোশাক আশাক ধরণ দেখে মনে হচ্ছে ধনির দুলালি....
মনে হয় গ্রামে কোন আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল নয়ত ঢাকা বেরাতে যাচ্ছে, এই সব ভাবনার মাঝে মেয়েটা বলল,অনেকক্ষনত হাটলাম চলুন ঐখানটায় একটু বসি...
ঘাসের উপর পাসাপাসি দুজন বসলাম....
মেয়েটা আমাকে জিঙ্গাসা করল, আপনি কোথায় যাচ্ছেন?
আমি বললাম, আমার কোন নির্দিষ্ট ঠিকানা নাই,কাজের খুজে ঢাকা যাচ্ছি....
যদি মনের মত কাজ মিলে যায় তাহলে ঢাকা থাকব নইলে আবার গ্রামে ফিরে আসব....
একটু থেমে বললাম, আপনার মত সুন্দরি মেয়ে একা এভাবে আসা যাওয়া ঠিক না...
মেয়েটা লম্ব নিশ্বাস ছেরে বলল,বাড়ি থেকে বের হয়েছিলাম একজনের হাত ধরে....
লাস্ট স্টপিসে নেমেছিল আমার জন্য নাস্তা আনতে....
কিন্তু আর ফিরে আসে নাই..
দোষটা অবশ্য ওর ছিলনা,আমিই এক প্রকার জোর করে বাধ্য করেছি আমাকে নিয়ে পালাতে....
আমি জিঙ্গাসা করলাম, তাহলে এখন কোথায় যাবেন?
কয়েক ফোটা চোখের জল জমিনে ফেলে
মেয়েটি বলল,এখন আমি জানি না কোথায় যাব?
আমি বললাম, বাড়ি ফিরে যান?
মেয়েটা বলল দুই রাত বাহিরে কাটিয়ে যদি বাড়ি ফিরি তাহলে কি কোন সৎ মা সহজে মেনে নিবে?
এমন সময় লঞ্চ হর্ণ দিয়ে সবাইকে উঠতে বলল লঞ্চ এখন ভাসমান....
সবাই হুরাহুরি করে উঠতে লাগল, আমিও পা বারালাম সবার সাথে উঠতে....
মেয়েটা আমার হাত ধরে বলল,এত তারা কিসের?
আমাদের তো নিয়েই যাবে,অযথা তারাহুরা ভাল না...
আমি দাড়িয়ে গেলাম...
সবার শেষে মেয়েটির হাত ধরে লঞ্চে উঠলাম....
ঢাকা যেতে এখনও দুঘন্টার মত লাগবে....
তাই কেবিনে না গিয়ে মেয়েটাকে নিয়ে কেন্টিনে গেলাম....
কিন্তু কেন্টিনটা বন্ধ,হয়ত এত সময় লঞ্চ আটকে থাকাতে সব কিছু বিক্রি হয়ে গেছে...
আবার সেই কেবিন গিয়ে ঢুকলাম, মেয়েটা বসলেও আমি বাহিরে এসে আবার রেলিং ধরে দাড়ালাম....
বার বার মেয়েটার হাত ধরার অনুভূতি মনকে উৎফুল্ল করে তুলল....
বলা চলে এই প্রথম কোন মেয়ের হাত ধরলাম....
নদীর দিকে তাকিয়ে মেয়েটাকে নিয়ে অনেক কিছু ভাবলাম...
সব ভাবনার শেষ ভাবনা,আমি চাল চুলহিন....
আমার ভাবনা ভাবনাই থেকে যাবে, লঞ্চের যাত্রিরা সবাই ক্লান্ত,বেশির ভাগ লোক ঘুমিয়ে গেছে....
যারা জেগে আছে তারা আজকের ঘঠে যাওয়া গঠনা নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত আছে....
মেয়েটা আমার পাসে এসে দাড়িয়ে বলল, আর কতক্ষন লাগবে সদরঘাট যেতে?
আমরা ফতুল্লা চলে এসেছি...
তাই বললাম, আনুমানিক আধাঘন্টার মত....
মেয়েটা একটু পর বলল,আমাকে আপনার সাথে নিয়ে যাবেন?
আমি জিঙ্গাসা করলাম কোথায়?
মেয়েটা বলল, আপনি যেখানে যাবেন.....
আমি বললাম, আমার নিজের কোন ঠিকানা নাই....
মেয়েটা বলল, আমারও কোন ঠিকানা নাই....
ভালই হল দুজনের গন্তব্য এক জায়গায়?
আমি জিঙ্গাসা করলাম কিভাবে ভাল হল?
মেয়েটা বলল আমাদের কোন ঠিকানা নাই....
তাই এক সাথে হারিয়ে যেতে কোন বাধাও নাই....
আমি কিছু না বলে চুপ হয়ে রইলাম....
মেয়েটা আবার আমাকে বলল,নিবেন না আপনার সাথে?
আমি মেয়েটার দিকে মুখ করে তাকালাম....
মেয়েটা বলল, দেখুন আমি খারাপ মেয়ে নই....
আজ যদি আপনি আমাকে না নিয়ে যান তাহলে হয়ত খারাপ মেয়েতে পরিনত হব....
কারণ আমার ফিরে যাওয়ার মত কোন জায়গা নাই....
এই বলে কেবিনের ভিতরে ঢুকে গেল....
মেয়েটা বড় চিন্তায় ফেলে দিল,কোথায় নিয়ে ওকে রাখব?
আমি নিজেও জানিনা আমি কোথায় থাকব?
তাহলে কি মেয়েটাকে একা রেখে চলে যাব?
তা হয় না,অসহায় একটা মেয়েকে এভাবে রেখে পালান ঠিক হবে না....
দেখি দাদার কাছে গিয়ে, যদি কোন ব্যবস্থা হয় তাহলে থাকব,নইলে মেয়েটাকে নিয়ে আবার গ্রামে ফিরে আসব....
এমন সময় লঞ্চ সদর ঘাটে ভিরল....
আমি কেবিনে ঢুকে দেখি মেয়েটা মাথা নিচু করে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদছে....
কি বলল,ভেবে পাচ্ছি না....
হঠাৎ করে মুখ থেকে বেরিয়ে গেল এভাবে কাদলে কিন্তু আমার সাথে নিব না....
মেয়েটা মাথা উচু করে চোখের পানি মুছে বলল, আপনি না নিলে এই বুড়িগঙ্গায় ঝাপ দিয়ে মরতাম....
তারপর....
দুজনই লঞ্চ থেকে নামলাম....
খুব ক্ষুদা লাগছে আর মেয়েটা সেই রাত থেকেই ক্ষুদার্থ....
তাই লঞ্চ থেকে নেমে নাস্তা করে নিলাম,সময়ও কম না প্রায় এগারটা বাজে....
জগন্নাথ বিশ্ব বিদ্যালয়ের সামনে থেকে বাসে উঠে কল্যাণপুর যাই....
ইচ্ছে ছিল রিক্সায় করে আসব কিন্তু যেই জ্যাম তাই হাটতে আরম্ভ করলাম....
কিন্তু হঠাৎ করেই বাংলা বাজারের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ আমাদের ডাক দেয়....
আমরা পুলিশের কাছে গিয়ে স্যার বলে সালাম দিলাম....
পুলিশ জিঙ্গাসা করল, কোথায় থেকে এসেছি,কোথায় যাব....
ব্যাগের ভিতরে কি আছে?
কোন অবৈধ জিনিস আছে কিনা?
মেয়েটা আমার বাহু ধরে দাড়িয়ে ভয়ে কাঁপছে, ভয় আমারও লেগেছে কিন্তু সাহস রাখার চেষ্টা করছি...
মেয়েটার কাধে ঝুলানো স্কুল ব্যাগ ও আমার সাইড ব্যাগের ভিতরে চেক করতে লাগল....
এক পুলিশ মেয়েটাকে দেখিয়ে বলল, কি হয়?
মেয়েটা আমাকে আরও শক্ত করে ধরল....
আমি মুখে কোন জরতা না নিয়ে বললাম, আমার স্ত্রী....
মেয়েটা আমার মুখের দিকে এক নজর তাকাল....
এমন সময় দাড়োগা বাবু বলল,কি পুঁটি মাছ নিয়ে পরে আছ?
এদের ছেরে বোয়াল মাছ ধর...
এলোমেলো ব্যাগ দিয়ে বলল,চলে যাও....
আরেক পুলিশ বলল,এখনও ভাল করে চোখ ফুটে নাই বিয়ে করে বউ নিয়ে ঢাকায় বেড়াতে এসেছে....
অগোছাল ব্যাগ দুইটা আমি নিয়ে বাস স্টান্ডে এসে বাসে চড়ে বসলাম....
ব্যাগ দুইটা গুছিয়ে পায়ের নিচে রেখে আরাম করে বসলাম....
মেয়েটা একটু মুচকি হাসি দিয়ে আমাকে জিঙ্গাসা করল,আপনার স্ত্রীর নাম জানেন?
আর আপনার স্ত্রী কি তার স্বামীর নাম জানে?
আমি জিব্হায় কামড় দিয়ে বললাম, বড় বাঁচা বেঁচে গেছি....
যদি পুলিশ আপনার কাছে আমার নাম জানতে চাইত?
তাহলে কি বলতেন?
আচ্ছা আপনার নাম কি?
মেয়েটা বলল আমার নাম সিনথিয়া আহমেদ বিথও,আপনি বিথি বলে ডাকবেন.....
আমি বললাম, আমার নাম রাসেল, আপনিও রাসেল বলেই ডাকতে পারেন....
মেয়েটা মানে বিথি বলল,আপনি কি জানেনা বাঙ্গালী স্ত্রীরা স্বামীর নাম মুখে আনে না,এই বলে বিথি মুখ চেপে ধরে হাসতে লাগল....
গল্পঃ ভালোবাসার অনুভূতি
পর্বঃ ১
Collected...

আরো পড়ুন.......
না বলা ভালোবাসা>>https://isronyeverything.blogspot.com/2020/08/blog-post_1.html
স্কুলের প্রেম>>https://isronyeverything.blogspot.com/2020/08/blog-post_20.html


Post a Comment

Previous Post Next Post