ব্যালেন্স হচ্ছে এক ধরনের যন্ত্র, যা পরিমাপের জন্য ব্যবহার করা হয়। রাসায়নিক মাত্রিক বিশ্লেষণে কোনো বস্তুর ওজন সূক্ষ্মভাবে পরিমাপ করার জন্য ব্যালেন্স ব্যবহার করতে হয়। ব্যালেন্সে ধাতু নির্মিত একটি দাগকাটা অক্ষ থাকে। এই অক্ষের দুই প্রান্তে দুটি সমন্বয়ী স্ক্রু থাকে। দণ্ডের ঠিক মাঝখানে একটি এবং মধ্যবিন্দু হতে সমান সমান দূরে দুটি প্রান্তে মোট তিনটি ছুরিকা-ফলক থাকে। একটি ফাঁপা দণ্ডের কঠিন সমতলের উপর ব্যালেন্সের অক্ষদণ্ডটির মধ্যখানের ছুরিকা ফলকি স্থাপন করা হয়। এই ফাঁপা দণ্ডের মধ্য দিয়ে একটি চলমান কাঁটা স্থাপন করা হয়, যার নিচে ফাঁপা দণ্ডের সাথে একটি দাগ কাটা স্কেল সমান্তরালভাবে স্থাপন করা হয়। উক্ত চলমান কাটা স্কেলের শূন্য বিন্দুতে থাকলে ধরা হয় যে, ব্যালেন্সটি নিউট্রাল/প্রশম রয়েছে। ফাঁপা দণ্ডের নিরেট সমতলকে প্রয়োজন বোধে হাতলের সাহায্যে উঠা-নামা করানো যায়। সূক্ষ্ম ওজনের জন্য রাইডার ব্যবহার করা হয়। রাইডারকে প্রয়োজনবোধে স্থানান্তর করার ব্যবস্থা রাখা হয় এবং ব্যালেন্সকে একটি কাঁচের বাক্সের মধ্যে রাখা হয়।
বর্তমান রসায়ন ল্যাবরেটরিতে সাধারণত তিন ধরনের ব্যালেন্স ব্যবহার করা হয়। যথা–
১. বুংগে ব্যালেন্স
২. স্যার্টোরিয়াস ব্যালেন্স
৩. ডিজিটাল ব্যালেন্স

বুংগে ব্যালেন্স (Bunge Balance) : যে ব্যালেন্সের অক্ষীয় দণ্ডের বাম প্রান্তে শূন্য (0) এবং ডান প্রান্তে দশ (10) দাগাঙ্কিত থাকে এবং প্রতি একক দাগাঙ্কিত ঘরকে দশটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দাগে বিভক্ত করা হয়, সেই ব্যালেন্সকে বুংগে ব্যালেন্স বলা হয়। মনে রাখতে হবে, বুংগে ব্যালেন্স ব্যবহারের সময় রাইডারকে শূন্য দাগে রাখতে হবে এবং শেষে রাইডারকে উপযুক্ত স্থানে সরিয়ে নির্দেশককে শূন্য অবস্থানে আনতে হবে। রাইডারের ওজনকে মূল ওজনের সাথে যোগ করলে বস্তুর ওজন পাওয়া যাবে। বুংগে ব্যালেন্স ভরমাত্রিক বিশ্লেষণে ব্যবহার করা হয়। সাধারণত প্রমাণ দ্রবণ তৈরি করার সময় নির্দিষ্ট ওজনের রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োজন হয়। সেই ক্ষেত্রে বুংগে ব্যালেন্স ব্যবহার করে ওজন নেয়া হয়। ওজন নেয়ার সময় রাইডারের ধ্রুবক জানা থাকা দরকার।


অনুশীলনী

১। ব্যালেন্স কি? ব্যালেন্স কত ধরনের?

২। ব্যালেন্স এর কাজ কি?

৩। বুংগে ব্যালেন্স (Bunge Balance) কাকে বলে?

৪। বুংগে ব্যালেন্স এর ব্যবহার (Use of Binge balance)।

Post a Comment

Previous Post Next Post